বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ড গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
মেনু নির্বাচন করুন
Text size A A A
Color C C C C
সর্ব-শেষ হাল-নাগাদ: ২৬ জুলাই ২০১৮

রেশম কারখানার ইতিহাস ও অবস্থা

স্বাধীনতাপূর্ব বাংলাদেশের রেশম শিল্পের প্রেক্ষাপট

  • ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পূর্ব হতে বৃহত্তর রাজশাহী ও বগুড়া জেলায় দু’টি রেশম বীজাগার ছিল এবং সে সময় হইে এ অঞ্চলে রেশমের চাষাবাদ হতো। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের আবহাওয়া এবং জমি রেশম চাষের উপযোগী হওয়ায় তদানীন্তন পাকিস্তান আমলে দেশের এ অঞ্চলে রেশম চাষের সম্প্রসারণ ঘটে৷
  • রেশম বীজাগার থেকে চাষীগণকে রেশম পোকার বীজ সরবরাহ করা হতো৷ চাষীরা এ বীজ থেকে রেশম পোকার ডিম এবং ডিম থেকে রেশম গুটি উত্পাদন করতো৷
  • এ শিল্পের সাথে জড়িত রেশম চাষীরা রেশম গুটি থেকে রেশম সুতা উত্পাদন করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট এবং ঢাকা জেলার মীরপুরে তাঁতীদের নিকট বিক্রি করতো ৷ 
  • তাঁতীরা সে সময় এসব স্থানে হস্তচালিত তাঁ তের মাধমে রেশম বস্ত্র উত্পাদন করে স্থানীয় বাজারে এবং পশ্চিম পাকিস্তানে বিক্রি করতো ৷
  • ১৯৫৯-৬০ সাল পর্যন্ত রেশম সম্প্র্রসারণের কাজ এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল ৷

রাজশাহী রেশম কারখানার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

  • ১৯৫৯-৬০ সালে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের নিয়ন্ত্রণে রাজশাহী রেশম কারখানা স্থাপিত হয়৷  
  • ১৯৬১ সালে মডেল কারখানা হিসেবে মূলতঃ নিম্নোক্ত ৩টি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে এর কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হয়ঃ

            (১)    রেশম চাষীদের নিকট হতে নগদ মূল্যে রেশম গুটি ক্রয় ৷

            (২)    রেশম গুটি থেকে শক্তিচালিত তাঁ তে ব্যবহারপযোগী সুতা উৎপাদন, রেশম বস্ত্র তৈরী ও বাজারজাতকরণ ৷

            (৩)   রেশম চাষীগণকে প্রয়োজনে ভর্র্তূকী প্রদান ৷

  • ১৯৭৭ সালে রেশম বোর্ড স্থাপিত হলে এ কারখানাটি রেশম বোর্ডের নিকট হস্তান্তর হয়। প্রাথমিক অবস্থায় এ কারখানাটিতে ১০০টি রিলিং মেশিন, ২৩টি শক্তি চালিত তাঁত ও ১০টি হস্তচালিত তাঁত স্থাপন করে রেশম শিল্পের সস্প্রসারণের জন্য প্রমোশোনাল ইউনিট হিসেবে চালু করা হয়৷  
  • ১৯৭৪ থেকে ১৯৮০ সালে বিএমআরই প্রকল্পের অধীন ১০০টি রিলিং     বেসিনকে ২০০টিতে এবং ২৩টি শক্তিচালিত তাঁতকে ৪৩টিতে উন্নীত করা হয়৷‌
  • ১৯৮০ সালে কোনরুপ আবর্তক তহবিলের সংস্থান না রেখেই এটিকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচালনার নির্দেশ  দিলে রেশম বোর্ডের উন্নয়ন খাত হতে প্রতি বৎসর অর্থের যোগান দিয়ে কারখানাটি চালু রাখা হয়৷  
  • ১৯৯৫ হতে ১৯৯৯ সালে বিএমআরই প্রকল্পের অধীন ৫৬৫.৯০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে কারখানাটির ভবন  বর্দ্ধিতকরণ সহ অতিরিক্ত ২০টি শক্তিচালিত তাঁত ও ১০টি হস্তচালিত তাঁত এবং অন্যান্য যম্ত্রপাতি স্থাপন করা হয়৷
  • ক্রমাগত লোকসানসহ নানাবিধ কারণে ২০০২ সালের ৩০,নভেম্বর  কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্মরত ২৭২ জন জনবলকে গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের মাধ্যমে চাকুরী  হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয়৷

 

রাজশাহী রেশম কারখানা বন্ধ ঘোষণার প্রেক্ষাপট

  • বিসিক এর  নিকট  হতে  রেশম বোর্ডের  নিকট  রেশম কারখানাটি  হস্তান্তরের সময়  হতেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জনবল ছিল।
  • কারখানার উত্পাদন চালু রাখার জন্য রেশম গুটি ক্রয়, রং ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি ক্রয়, বিদ্যুৎ বিল সহ অন্যান্য আনুসংগিক খরচ এবং শ্রমিক মজুরী পরিশোধ সংক্রান্ত ব্যয় রেশম বোর্ড হতে ঋণ নিয়ে অথবা সরকারের নিকট হতে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে নির্বাহ করা হয়েছে ৷ কারখানার আয় হতে এ সমস্ত ব্যয় কখনই পুরোপুরি নির্বাহ করা সম্ভব হয়নি ৷
  • একদিকে কারখানার উৎপাদন কখনই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারেনি অন্য দিকে উৎপাদিত পণ্য বহুলাংশে অবিক্রিত থেকে গেছে৷ ফলে কারখানাটি লোকসানমূখী হয়ে বিশাল অংকের দেনার সম্মূখীন হয়ে পড়ে৷
  • ২০০২ সালের ফেব্রুয়ারী মাস হতে রেশম কারখানাটি এমন এক পর্যায়ে পৌঁছে যে আর্থিক সংকটের কারণে উৎপাদন একেবারে বন্ধ হয়ে যায় এবং শ্রমিকদের মজুরী পরিশোধ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে৷ এ অবস্থায় সরকারী সিদ্ধান্তে কারখানাটি বন্ধ ঘোষিত হয় ৷

 

ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস

  • বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভের পর ১৯৭৬ সালে যুদ্ধত্তোর জনগণের বিশেষ করে অসহায় মহিলা ও পুরুষদের পূর্নবাসন ও কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে একটি বেসরকারী সংস্থা RDRS কর্তৃক ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা প্রতিষ্ঠিত হয়৷  
  • ১৯৮১ সালের ৩০ জুন সরকারী সিদ্ধান্তে অলাভজনক ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানাটি রেশম বোর্ডের নিকট হস্তান্তরিত হয়৷
  •  এ সময় কারখানাটিতে ২০টি রিলিং বেসিন, ৩টি শক্তিচালিত তাঁত, ১৯টি হস্তচালিত তাঁত ও আনুসংগিক যন্ত্রপাতি সংস্থাপিত ছিল ৷
  • কারখানাটির চলতি মুলধন না থাকায় কারখানা পরিচালনার যাবতীয় অর্থ বোর্ডের উন্নয়ন তহবিল থেকে ঋণ হিসেবে প্রদান করা হয়েছে৷
  • ১৯৯৬ হতে ১৯৯৯ সালে ১৬৩.৫৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে বিএমআরই প্রকল্পের অধীনে কারখানাটির ভবন বর্দ্ধিতকরণসহ অতিরিক্ত ২০টি শক্তিচালিত তাঁতসহ কিছু আনুসঙ্গিক যন্ত্রপাতি সংস্থাপিত হয়৷ কিন্তু আবর্তক তহবিলের অভাবসহ নানাবিধ কারণে কারখানাটি পরিচালনা সম্ভব হয়নি৷ 
  • ২০০২ সালের ৩০ নভেম্বর কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে কর্মরত ৮৬ জন জনবলকে গোল্ডেন হ্যান্ডসেকের মাধ্যমে চাকুরী হতে অব্যাহতি প্রদান করা হয় ৷

ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা বন্ধ ঘোষণার প্রেক্ষাপট

  • রেশম কারখানাটির উত্পাদন কখনই লক্ষ্যমাত্রায় পৌছতে পারেনি৷
  •  কারখানা হতে আয় দ্বারা কখনই ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হয়নি৷ ফলে এটি একটি লোকসানমূখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়ে পড়ে৷
  • কারখানাটিতে ফেব্রুয়ারী’২০০২ হতে নভেম্বর’২০০২ পর্যন্ত ১০ মাস শ্রমিকরে মজুরী প্রদান সম্ভব হয়নি৷
  • এ পর্যায়ে সরকারী সিদ্ধান্তে কারখানাটি বন্ধ ঘোষিত হয় ৷

 

রাজশাহী ঠাকুরগাঁও রেশম কারখানা দু’টি লোকসানমূখী য়ে পড়ার কারণ সমূহ

  • কারখানা ২টি বাণিজ্যিকভাবে পরিচালনার জন্য কোন সময়েই প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল  দেয়া হয়নি৷ ফলে কাঁচামাল সংগ্রহ করে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি৷ 
  • কোন সময়ে ঋণ আকারে অর্থ বরাদ্দ করা হলেও সিদ্ধান্তে দীর্ঘ সূত্রিতা, অর্থ ছাড়ে বিলম্ব ইত্যাদির কারণে ঐ অর্থ কাংখিত লক্ষ্যে পুরোপুরি ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি৷ অনেক সময় ঐ অর্থ থেকে বিরাজমান অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শ্রমিকদের বেতন মজুরী বাবদ ব্যয় করতে হয়েছে৷  
  • লক্ষ্যমাত্রা স্থির ব্যতিরেকে উৎপাদন, উৎপাদিত পণ্যের অপর্যাপ্ত বিপণন ব্যবস্থা, বিপণনে মন্থরগতি৷ 
  • বস্ত্রের উৎপাদন ব্যয় অধিক হওয়ায় বিপণনে বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে অসম প্রতিযোগিতা৷ 
  • উৎপাদিত বস্ত্রের বাজার সৃষ্টির জন্য ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা না থাকা, বস্ত্র বিক্রির জন্য দক্ষ কর্মীর অভাব এবং যথেষ্ট বিক্রয় কেন্দ্র না থাকা।
  • বিদেশী কৃত্রিম রেশম বস্ত্রে বাজার দখলের ফলে কারখানা দু’টির উৎপাদিত বস্ত্রের চাহিদা কমে যাওয়া৷ 
  • কারখানা ব্যবস্থাপনার নগদ ক্রয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে সরকারী নিয়মনীতি পালন করে টেন্ডারে বেশী মূল্যে কাঁচামাল ক্রয়৷ 
  • বেসরকারী কারখানার ন্যায় শ্রমিকদের পিস রেটে মজুরী পরিশোধ না করে IWWPC অনুযায়ী মজুরী পরিশোধ করায় উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়া ৷ 
  • উৎপাদিত পণ্যের উচ্চমূল্য, ডিজাইনের সীমাবদ্ধতা ইত্যাদির কারণে বিপণনের ক্ষেত্রে লক্ষমাত্রা অর্জিত না হওয়ায় রেশম বস্ত্রের মওজুদ বৃদ্ধির ফলে তারল্য সংকট ও অদক্ষ ব্যবস্থাপনা ইত্যাদি।

রেশম কারখানা দুটির ৎপাদন ক্ষমতা

রাজশাহী রেশম কারখানা

ৎপাদন ন্ত্রের নাম

সংখ্যা